আদালতের রায়ের পর নতুন করে অ্যাসাইলাম আবেদন গ্রহণকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি প্রধান শহরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির ডারবান, সোয়েটু ও পোর্ট এলিজাবেথে অভিবাসনবিরোধী স্থানীয়দের বিক্ষোভ ব্যাপক রূপ নেয়। সহিংসতায় অন্তত ২৪টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও বিদেশি মালিকানাধীন বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডারবানের চে গুয়েভারা রোডে অবস্থিত রিফিউজি রিসেপশন সেন্টারের সামনে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন জমা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয়রা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বিক্ষোভ ডারবান সিটি সেন্টারে ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৪টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় এক বিক্ষোভকারীর ওপর হামলার অভিযোগে তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
একই সময়ে জোহানেসবার্গের সোয়েটুর অরল্যান্ডো ওয়েস্ট এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্স কার্যালয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল বের করলে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে অন্তত ১০টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং দোকানপাট লুটপাটের শিকার হয়। সংঘাতের সময় গুলির শব্দ শোনা গেলেও উৎস নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে পোর্ট এলিজাবেথের গকেবেরহায় রিফিউজি অফিসে শত শত আশ্রয়প্রার্থী অস্থায়ী পারমিটের জন্য লাইনে দাঁড়ালে প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
উত্তেজনার পটভূমি ও সরকারের বক্তব্য
গত জুলাই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালতের একটি রায়ের প্রেক্ষিতে হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগ নতুন আবেদনকারীদের জন্য অ্যাসাইলাম কার্যক্রমে প্রবেশের সুযোগ পুনরায় চালু করে। আগে প্রক্রিয়াগত শর্তের কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছিলেন না। আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় বিভিন্ন অভ্যর্থনা কেন্দ্রে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়, যা অভিবাসনবিরোধী দল ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, অ্যাসাইলাম আবেদনের সুযোগ পাওয়া মানেই কাউকে চূড়ান্ত শরণার্থী মর্যাদা বা স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন দেওয়া নয়। প্রতিটি আবেদন আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা হবে এবং আদালতের রায়ের ফলে কোনো অবৈধ অভিবাসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধতা পাবে না।
বিক্ষোভের কারণে জনজীবন ও যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় ডারবান, সোয়েটুসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও পাবলিক-অর্ডার ইউনিট মোতায়েন রাখা হয়েছে।