ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী তিন দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে এখনো দ্বিধা প্রকাশ করছেন এবং পরিকল্পনাগুলোয় ভেটো দিয়ে আসছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে এবং শিগগিরই তিনটি রণতরি জোগ হতে যাচ্ছে। পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একটি সংক্ষিপ্ত ও তীব্র অভিযানের পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আলোচিত হয়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেহরানে কোনো আক্রমণ চালানো হবে না এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দরকষাকষির ক্রম নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ইরান লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে অন্তত ১৩টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের কোনো সামরিক জবাব দেয়নি। তা সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, থিওডোর রুজভেল্ট, জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং জর্জ ওয়াশিংটন নামের তিনটি বিমানবাহী রণতরি অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নেবে, যার সঙ্গে থাকবে ২০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচন এবং পরবর্তী সপ্তাহে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল চোরাচালানের অভিযোগে থাকা ১৭টি ট্যাঙ্কার জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস