বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দিজীবন কাটছে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির। উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতায় চূড়ান্ত রায় না আসায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়েই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন তিনি।
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে ২০১৯ সালের ২৬ জুন দিনে-দুপুরে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে নিহতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের পর ওই বছরের ৪ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একই সময়ে দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে মিন্নিসহ আসামিরা পৃথক আপিল করেন। এছাড়া অসুস্থতাসহ নানা যুক্তিতে জামিন আবেদন করা হলেও তা কার্যত শুনানির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১ হাজার ২৬৫টি ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে, যার জট ক্রমেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির জানান, বর্তমানে ২০১৯ সালের ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানি চলছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের রিফাত হত্যা মামলার নথির বর্তমান অবস্থা যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক আদালত থেকে আপিল বিভাগ পর্যন্ত একটি মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে ১৫ থেকে ২০ বছর লেগে যায়। ফলে চূড়ান্ত রায়ের আগেই কোনো আসামিকে বছরের পর বছর কনডেম সেলের মতো নির্জন কুঠুরিতে রাখা মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী; কারণ আপিল নিষ্পত্তির আগে কাউকে চূড়ান্ত অপরাধী গণ্য করা যায় না।
মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না জানান, সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতা ও নারী বন্দি হিসেবে ২০২২ সালের অক্টোবরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের অপারগতা ও পরবর্তী বেঞ্চে শুনানির সময় পেছানোর পর বিষয়টি আর কার্যতালিকায় আসেনি।
মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে। চরম শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত জামিনের আর্জি জানান তিনি।
কারা সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল কারাগারের কনডেম সেলের একমাত্র নারী বন্দি মিন্নি। কারাবিধি অনুযায়ী সেখানে তিনি দুই সেট পোশাক পেয়েছেন এবং নির্ধারিত সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। মাসে একবার স্বজনদের সাক্ষাৎ এবং সপ্তাহে একবার সীমিত সময়ের জন্য পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সুযোগ পান তিনি। মানসিকভাবে ধীরস্থির ও শান্ত প্রকৃতির মিন্নি কনডেম সেলে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়েই অধিকাংশ সময় পার করছেন।