শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা: ববি হাজ্জাজ

শিক্ষাজীবনে ভালো ফল বা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনই পেশাগত জীবনে সফলতার নিশ্চয়তা নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে তরুণদের কারিগরি জ্ঞান, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং বাস্তব সমস্যা মোকাবিলার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) আয়োজিত দ্বিতীয় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। টেসলবিডি ও ইউল্যাব যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে তরুণদের এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে তারা দেশীয় কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে ভাষা, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক কাজের দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

ইংরেজি শিক্ষার বিদ্যমান দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এ ভাষা শেখানো ও চর্চার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ মুখস্থ করানোর পরিবর্তে বাস্তব পরিস্থিতিতে ইংরেজি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে শেখাতে শিক্ষকদেরও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও পেশাসংশ্লিষ্ট বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইংরেজিতে পাওয়া যায়। ফলে ভাষার সীমাবদ্ধতা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর সামনে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে ইংরেজি শেখার পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট পরিভাষা সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।

তরুণ জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠবেন। এ জন্য তাদের জন্য স্থায়ী আয়ের সুযোগ, মর্যাদাপূর্ণ চাকরি এবং নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, নতুন কিছু উদ্ভাবনের মানসিকতা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।