বিদেশি কর্মী নিয়ে জালিয়াতি: মালয়েশিয়ায় ১১ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের আমপাং জেলার তামান দাতুক আহমদ রাজালিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিদেশি কর্মী সরবরাহের কোটা জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২৩ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবানের বরাত দিয়ে শুক্রবার মালয়মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুত্রাজায়া অভিবাসন সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের কৌশলগত সম্মতি শাখা এবং গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ পরিচালনায় এ দিন সকাল সাড়ে ৭টায় (স্থানীয় সময়) এই অভিযান চালানো হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য ও এবং অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, ‘আটককৃতদের মধ্যে জালিয়াতিতে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবস্থাপক বলে ধারণা করা দুই বাংলাদেশি পুরুষ রয়েছেন, এ ছাড়া ৬ জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং ১২ জন বিদেশি গ্রাহক রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি পুরুষ ও ৩ জন ইন্দোনেশীয় নারী।’

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দাতুক জাকারিয়া বলেন, অভিযান পরিচালনাকারী দল ২৬৫টি বাংলাদেশি, ৬৩টি ইন্দোনেশীয়, ১২টি পাকিস্তানি এবং ১টি ভারতীয় পাসপোর্ট জব্দ করেছে। একই সঙ্গে ৬ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ান মুদ্রা) জব্দ করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের দেওয়া অর্থ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে তিনি জানান, চক্রটি ‘এ-টু-বি’ নামের একটি পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা করত। এ পদ্ধতিতে একটি কোম্পানি বা চাকরিদাতা ‘এ’ বিদেশি কর্মী আনার অনুমোদন নিত এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (পিএলকেএস) আওতায় কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। পরে ওই কর্মীদের প্রকৃত নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করানোর পরিবর্তে লাভের বিনিময়ে অন্য কোম্পানি বা চাকরিদাতা ‘বি’-এর কাছে সরবরাহ করা হতো।

বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা পেতে চক্রটি বিভিন্ন কোম্পানির বিষয়ে ভুয়া তথ্য জমা দিয়েছিল বলেও সন্দেহ করছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী তদন্তে দেখা গেছে, কোটার আবেদন করা কোম্পানিগুলোর অধীনে কাজ করতেন না মালয়েশিয়ায় আনা বিদেশি কর্মীরা। বরং তাঁরা স্বাধীনভাবে অন্য কোম্পানিতে কাজ করতেন।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এই কাজের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মীকে মালয়েশিয়ায় এনে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত লাভ করা হতো। কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য জড়িত কোম্পানিগুলো তাদের আসল আয়ের চেয়ে অনেক কম লাভ দেখাত। এ ছাড়া তারা ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিজেদের ব্যক্তিগত আয়ের হিসাবও জমা দেয়নি। 

তিনি বলেন, যারা বিদেশি কর্মী কোটার অপব্যবহার করে পরিকল্পনা সাজায়, পরিচালনা করে এবং মুনাফা অর্জন করে, তাদেরসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে।

প্রথম আলো