কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকা থেকে খোকাকে এবং নেত্রকোনা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার মোকারম হোসেন খোকা মিঠামইন উপজেলার ভাটিঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের আব্দুল হাসিম মিয়ার ছেলে। তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেন একই গ্রামের রান্নু মিয়ার ছেলে। মোকাররম হোসেন খোকা মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন। জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের পর এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। মিঠামইন সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্বজনেরা তাদের উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মো. হেলাল (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মোকারম হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন। এরপর থেকে মোকারম আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রাতেই হেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ও সন্দেহভাজন অন্য আসামিদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. শাহিন আলমকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মিঠামইন থানার ওসি মনোয়ার মোহাম্মদ বলেন, বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় অভিযান চালিয়ে মোকারম হোসেন খোকা ও তার ভাতিজা মো. রিয়াদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।