মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে কারাগারে ফিরেছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। 

দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

এর আগে, গত মাসের শেষ দিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ইনজেকশন দেওয়া হলেও বেঁচে যান তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে।

আইনজীবীদের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৩০ বছর ধরে যে কারাগারে বন্দী রয়েছেন পাইক, সেখানেই ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে তাকে। বর্তমানে কারাগারেই তার চিকিৎসা চলছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। তার জ্ঞান ফিরে আসার ঘটনায় বিস্মিত হন চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ-হাসপাতালের কর্মী-তার আইনজীবীরা।

আইনজীবীরা বিবৃতিতে বলেন, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যারা প্রথম সাড়া দিয়েছেন এবং চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা বিরল। পাইকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। 

তার আইনজীবীদের মতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি হিসেবে পাইকই সম্ভবত একমাত্র।

বুধবার আদালতের শুনানিতে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়ার্স বিচারককে জানান, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তিনি জানেন না।

শুনানিতে, বিচারক, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশও দেন। ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন ক্রিস্টা পাইক। ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন-পিটিয়ে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। ঘটনার সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর।

তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে স্লেমারকে হত্যা করেন পাইক। নিম্ন আয়ের তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের পরিচয় হয়েছিল বলে জানা গেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার সময় প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর অচেতন হয়ে পড়েন পাইক। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে মঙ্গলবার আবার কথা বলতে শুরু করেন তিনি।

তার আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্ঞান ফেরার পর পাইকের প্রথম প্রশ্ন ছিল, আমি কোথায়? এরপর তিনি জানতে চান, আপনি কে?

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা এখনো জানায়নি টেনেসি সংশোধন বিভাগ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ প্রবেশের নল সঠিকভাবে স্থাপন না করায় ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমা হয়েছিল। পাইকের আইনজীবীরাও আদালতে দাখিল করা নথিতে নল স্থাপনে ত্রুটির অভিযোগ করেছেন।

এদিকে এ ঘটনার পর চলতি বছরে নির্ধারিত অন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ স্থগিত করে ঘটনার পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি। একইসঙ্গে অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগ করেছেন।