প্রেমিকাসহ ইমরান খানকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ

ভারতের মুম্বাইয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন ও চাচাতো বোন জায়েন মারি খান। মুক্তির পর আটকের কারণ না জানানো এবং বাড়ি ফেরার পথে বাধার অভিযোগ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান ও তার দুই সঙ্গী। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিকেল চারটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইমরান ও তার সঙ্গীদের টেনেহিঁচড়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে। পরে তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মুক্তির পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করে লেখা ওয়াশিংটন জানান, তারা নিরাপদে আছেন। পরে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে বাড়ি ফিরে তিনজনকে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়।

তবে মুক্তির পরও ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন লেখা। তার দাবি, বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সি নিতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ চালকদের হুমকি দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আটকের সময়ের অভিজ্ঞতা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তুলে ধরেন জায়েন মারি খান। তার দাবি, কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি। ইয়েলো গেট থানার কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তাদের কিছু জানাননি।

জায়েন জানান, পরে থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পিছু নেন। আটকের কারণ জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বারবার ‘দুই মিনিট’ বলে সময়ক্ষেপণ করেন। এরপর তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন বলেও অভিযোগ করেন জায়েন।

ইমরান খানের অভিযোগ, তাদের তিনজনকে পুলিশের ভ্যানে করে প্রায় দুই ঘণ্টা ঘোরানো হয়। কিন্তু কেন তাদের আটক করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। আটকের কারণ জানতে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পুলিশ সদস্যরা চলে যেতে থাকলে তাদের দিকে হাত নেড়ে ‘জয় হিন্দ’ বলতে দেখা যায় অভিনেতাকে।

আটকের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসিকতাও করেছেন ইমরান। পুলিশের ভ্যানে বসে নিজের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

মুম্বাই পুলিশের দাবি, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ করার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, তারা ইমেইলের মাধ্যমে অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি।

মুম্বাইয়ের পাশাপাশি দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে চার হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।