রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের দায়মুক্তির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
রোববার (১১ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব ক্ষোভ জানান।
যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল ও সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষার ব্যবহার সমর্থনযোগ্য নয়। তবে কারও মন্তব্যের জেরে তার কক্ষে সশস্ত্র হামলা ও ভাঙচুর চালানো এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক তদন্তে মূল ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
তারা আরও বলেন, বাকস্বাধীনতার চর্চার ক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সমালোচনার জেরে একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিশোধমূলক।
প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, হলকক্ষে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেরই পড়াশোনা শেষ হয়েছে অথবা তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাদের সক্রিয় ছাত্রত্ব নেই, তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের ঘোষণা দিয়ে কার্যত লোকদেখানো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনার নিন্দা আগেই জানিয়েছে ছাত্রশিবির। তবে প্রশাসনের একপেশে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আড়ালে হামলায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে সংগঠনটির অভিযোগ। ক্যাম্পাসে সক্রিয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সাবেক ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের শাস্তির তালিকায় রাখা এবং মূল ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত গুরুত্ব আড়াল করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয় পক্ষপাত পরিহার করে ক্যাম্পাসে ন্যায়বিচার ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলামের কাছে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের তিনজন নেতাকর্মী ও হল সংসদের জিএস-এর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া আরও চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিন জনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত রোববার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।