বিশ্বমানের প্যাকেজিং সমাধান এখন বাংলাদেশেই

দেশের হোম ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পের বিকাশে উন্নত প্যাকেজিং, কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও নীতিসহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, পণ্যের সুরক্ষা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডের পরিচিতি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন—সব ক্ষেত্রেই প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঁচামাল আমদানিতে করের চাপ কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশীয় উৎপাদকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ হোম অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্স’-এ এসব বিষয় উঠে আসে। এইচপিসি ও রিমস আয়োজিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রিমার্ক এইচবি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও সুপার প্যাক চ্যানেলের প্রধান জয়ন্ত সরকার, রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস, রিমেক্স করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার ত্বাহা, রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চান মোহন সাহাসহ কাঁচামাল ও প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।

প্যাকেজিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে রিমার্ক সুপার প্যাক প্রধান জয়ন্ত সরকার জানান, কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার, পার্সোনাল ও হোমকেয়ার পণ্যের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং সমাধান নিয়ে দেশের বাজারে কাজ করছে রিমার্ক সুপার প্যাক। আধুনিক প্রযুক্তি, নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা এবং কাস্টমাইজড প্যাকেজিং সুবিধার মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে বিশ্বমানের প্যাকেজিং তৈরির সুযোগ তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। কসমেটিকস ও স্কিন কেয়ার টেকনোলজি জায়ান্ট কোম্পানি রিমার্ক এইচবি লিমিটেডর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রিমার্ক সুপার প্যাক এরই মধ্যে দেশের শীর্ষ প্যাকেজিং কোম্পানি হিসেবে অবস্থানও তৈরী করে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্যাকেজিং শিল্পের টেকসই বিকাশে কাঁচামাল আমদানিতে করের চাপ পর্যালোচনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা এবং উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতিসহায়তা দেশীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

সম্মেলনে কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস পণ্যের গুণগত মান, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে ভোক্তাদের আস্থা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মানহীন ও নকল পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সুকান্ত দাসের মতে, হোম ও পার্সোনাল কেয়ার এবং কসমেটিকস শিল্পের জন্য আগামী পাঁচ বছরের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। এ জন্য দেশীয় উৎপাদকদের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালার উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং কাঁচামাল আমদানিতে করের চাপ কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সরবরাহব্যবস্থা, উৎপাদনশিল্প এবং ভবিষ্যৎ বাজারের প্রবণতা নিয়ে আলোচনায় রিমেক্স করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার ত্বাহা হোম ও পার্সোনাল কেয়ার খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উৎপাদন, সরবরাহ, বাজার বিশ্লেষণ ও বিপণনে ডিজিটাইজেশনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ব্যবসার দক্ষতা উন্নত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পাওয়া সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

সম্মেলনে অনলাইন বাজারে নকল ও মানহীন পণ্য বিক্রির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের পণ্য ভোক্তাদের আস্থা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করে। এজন্য বাজার তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বক্তারা মনে করেন, উৎপাদক, কাঁচামাল সরবরাহকারী, প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সেবাদাতা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে হোম ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্পের প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর নীতিসহায়তার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের এ খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নেওয়া সম্ভব।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনের ইভেন্ট পার্টনার ছিল রিমার্ক এইচবি লিমিটেড, আইএফএফ, কেভা, রিমেক্স ও সানআন লিমিটেড। গিফট পার্টনার ছিল লিলি ও স্কিনো। আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চান মোহন সাহা।