এক রাতেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল এক কৃষকের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছিল ফলন্ত কলার ছড়া—ঠিক তখনই শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হলো প্রায় এক হাজার কলাগাছ। অমানবিক এই তাণ্ডবে সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে কৃষক জয়দার মিয়ার।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনায় মাগুরার মহম্মদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষক। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক জয়দার মিয়া নিজ বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্থানসংলগ্ন ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে কলাবাগানটি গড়ে তোলেন। বাগানটি তৈরি করতে এনজিও এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। গাছে গাছে ইতিমধ্যে কলার ছড়া আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা পুরো বাগানটি ধ্বংস করে দেয়। এতে তার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার মিয়া বলেন, ‘এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আর দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর কিছুদিন পরই কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে আমার সব শেষ করে দিল। এখন কী দিয়ে এনজিওর কিস্তি দেব আর পরিবার নিয়ে কী খাব, তা বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।’
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলম নবী বলেন, ‘জয়দার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী কৃষক। ঋণ করে বাগানটি করেছিল। ফলন্ত কলাগাছ এভাবে কেটে ফেলা জঘন্য অপরাধ। এতে তার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পুলিশকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছি।’
প্রতিবেশী আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাগানের এই অবস্থা দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেছি। একজন কৃষকের সঙ্গে এমন শত্রুতা কোনো মানুষ করতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রায় সাড়ে ৩০০ কলার কাঁদিসহ ১ হাজার গাছ কেটে ফেলায় কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা এলে তাকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেওয়া হবে।’
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, কলাগাছ কাটার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা