বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইলের মা। সোমবার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
জবানবন্দিতে ইসমাইলের মা বলেন, ‘তার ছেলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন। ওই দিন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশায় করে তিনি ঢাকা মেডিকেলে ছেলের কাছে যাওয়ার সময় রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখেন। সেই সঙ্গে কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বিপ্লব– তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পান।’
জবানবন্দিতে ইসমাইলের মা বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন তার ছেলে। সন্ধ্যার পর ইসমাইলকে তার খালা আকলিমা ফোন করেন। তবে ইসমাইল ফোন ধরেননি। কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর তার বন্ধু কালু ফোন ধরে বলেন, ইসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে ইসমাইলের মা, খালা, নানীসহ কয়েকজন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশায় ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিছু দূর যাওয়ার পর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখেন তার। ওই সময় কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তাপস, বিপ্লব– তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। তাদের সামনেই একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।’
ইসমাইলের মা বলেন, ‘মেডিকেল যাওয়ার পর ছেলেকে খুঁজতে থাকেন তারা। না পেয়ে কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকের কাছে জানতে চান ছেলে বিষয়ে। ওইসময় কর্তব্যরত এক চিকিৎসক মোবাইলে ছবি দেখান। ছবি দেখে তারা ইসমাইলকে শনাক্ত করেন। এরপর তাদের মর্গে নিয়ে গেলে ৩০০-৪০০ লাশ দেখতে পান। একটার ওপর আরেকটা লাশ পড়ে ছিল। পরনের পোশাক দেখে ছেলেকে তিনি চিনতে পারেন। ছেলের মাথায় গুলি লেগেছিল। লাশ চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের অনুমতি ছাড়া দিতে অস্বীকার করে। পরদিন মোহাম্মদপুর থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইসমাইলের লাশ বাসায় নিয়ে যান তারা।’ লাশ নেওয়ার সময় মামলা করবেন না মর্মে– হাসপাতাল থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
এ আগে, গত ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। এর আগে গত ১০ মে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৮ আসামির মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফজলে নূর তাপসসহ ২৪ জন পলাতক। গ্রেপ্তার আছেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। আসামিদের মধ্যে নানক, তাপস ছাড়াও অন্যদের মধ্যে ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন।