কুমিল্লায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় অটোরিকশা চালক মো. ইকরামুল হককে (৩৭) আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুক্তিখোলা এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১, সিপিসি-২ এর একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে।
আটক ইকরামুল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
এদিকে আটক আসামিকে গ্রহণ করছে না সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল নিয়ে দুই থানা পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় আসামি হস্তান্তর নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসআরবি। দুই থানার টানাপোড়েনে আটক ইকরামুল এখন এসআরবি হেফাজতে।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন অটোরিকশা চালক মানসিক প্রতিবন্ধী একজন নারীকে ধর্ষণ করার কথা অকপটে স্বীকার করে। ওই ভিডিওটি এসআরবি-১১ এর নজরে আসার পর এই ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অটোরিকশাচালককে আটক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুক্তিখোলা এলাকা হতে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ইকরামুল হককে আটক করা হয়।
এসআরবি আরও জানায়, আটক ইকরামুল ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কলা বাগানে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ফুসলিয়ে নিয়ে সে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর কলাবাগান থেকে বের হওয়ার সময় রাসেল নামক অপর একজন অটোরিকশা চালক ইকরামুলকে দেখে মোবাইলে ঘটনার ভিডিও করে। এসময় ইকরামুল তার নিজের দোষ স্বীকার করে। ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এতে ধর্ষক ইকরামুল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। সোমবার তাকে আটক করে বিপাকে পড়ে এসআরবি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে স্থানটিতে ধর্ষণের ঘটনা দেখানো হয়েছে ওই স্থানটি চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায়। তাই মামলা ও আসামি হস্তান্তর চৌদ্দগ্রাম থানায় হতে হবে।’
অন্যদিকে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. আরিফ হোছাইন বলেন, ‘ঘটনাস্থলটি দুই থানার সীমান্তবর্তী, তবে স্থানটি সদর দক্ষিণ মডেল থানার অধিভুক্ত হওয়ায় মামলা ও আসামি হস্তান্তর ওই থানায় হওয়ার কথা।’
সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এসআরবি-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার দুপুরে আসামি আটকের পর হস্তান্তর নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ বলছে ঘটনাস্থলটি চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায়, অপরদিকে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ বলছে ঘটনাস্থল সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকার আওতাধীন। তাই মামলা দায়ের ও আসামি হস্তান্তর নিয়ে জটিলতায় পড়েছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।’