বাকেরগঞ্জে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

জিনের মাধ্যমে দুরারোগ্য ব্যাধি সারিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাকেরগঞ্জ থানা-পুলিশ। ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করার আশ্বাস দিয়ে এ চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৪ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের দালালপুর গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন মৃধার ছেলে মো. বায়জিদ (২৫), পক্ষীয়া ইউনিয়নের পক্ষীয়া গ্রামের আ. রহমান হাওলাদারের ছেলে মো. রনি হাওলাদার (২৬) এবং টবগী ইউনিয়নের মুলাই পত্তন গ্রামের আ. আজিজ চৌকিদারের ছেলে মো. ফজলে রাব্বি (২৪)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মামুন খানের ছেলে সাব্বির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গত ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্রটি। তারা ‘জিনের বাদশা’র মাধ্যমে অলৌকিক উপায়ে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। তাদের আশ্বাসে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী সাব্বির বিভিন্ন দফায় বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭২৪ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে সাব্বির আহমেদ বাদী হয়ে গত ৪ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২১, ২২, ২৩, ২৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরগুলোর নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান ও পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বোরহানউদ্দিন থানার বোরহানগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে বায়জিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী কাছিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রনি হাওলাদার ও ফজলে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার বিকেল পাঁচটায় গ্রেপ্তার তিনজনকে বাকেরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি অনুসন্ধান ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।