যে কোম্পানিতে চাকরি, সেই কোম্পানিরই সাড়ে ১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সানজি গ্রুপ অব কোম্পানিজের ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত পার্থ সারথী হালদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, পার্থ সারথী হালদারসহ মামলার অন্য অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেন। কোম্পানির মালিকের সই করা খালি চেকে প্রাপকের নাম পরিবর্তন করে নিজেদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দেওয়া এবং ব্যাংক ট্রান্সফার ও আরটিজিএসের মাধ্যমে ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ নেওয়ার মতো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করে গ্রাহকদের অর্থ জমা দেখানো হলেও ব্যাংক বিবরণী ও পার্টি লেজার পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট অর্থ কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করে সানজি গ্রুপ।

সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ পার্থ সারথী হালদার তার ব্যক্তিগত ব্র্যাক ব্যাংক হিসাবে জমা ও স্থানান্তরের মাধ্যমে ২ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৮৯৭ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া নগদ অর্থের হিসাব সমন্বয়, সফটওয়্যারে ভুয়া খতিয়ান তৈরি এবং এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি হিসাব ব্যবহার করেও অর্থ আত্মসাৎ করেন।

সানজি গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান পানামা সিএনজি কনভার্সন থেকেও একই কৌশলে ৬৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ আরও বলেন, পার্থ সারথী হালদার এককভাবে বিভিন্ন তারিখে চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৫৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাৎ করেন। সব মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১৬ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার ২১৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ সারথী হালদার অপরাধে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অন্য কারা জড়িত এবং অর্থের লেনদেন কোথায় কোথায় হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।