ইরান যুদ্ধের জেরে ২০২৭ সালেও থাকবে ডিজেলের সংকট: আইইএ

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকটের প্রভাব চলতি বছরের গণ্ডি পেরিয়ে ২০২৭ সালের অনেকটা সময়জুড়েও অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইইএর মাসিক জ্বালানি বাজারবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরবরাহে বিঘ্নের কারণে ডিজেলের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় মজুত ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। ফলে ২০২৭ সালের বড় একটি সময়জুড়ে ডিজেলের বাজারে সরবরাহ সংকট থাকতে পারে।

সংস্থাটির মতে, এ সংকট কাটিয়ে ওঠা অনেকাংশে নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। অঞ্চলটির দেশগুলো আগের মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি কমে গেছে। পাশাপাশি ইরানের পাল্টা হামলায় ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার জ্বালানি কর কমানো, ভর্তুকি দেওয়া এবং কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব মজুত পরবর্তী সময়ে আবার পূরণ করতে হবে, যা সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে তেল শোধনাগারগুলো যুদ্ধের আগের উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরে আসতে পারে। এতে ওই সময়ে চাহিদার তুলনায় ডিজেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়লেও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।

আইইএ সতর্ক করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাজারে ভারসাম্য ফেরাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক ব্যয় বহন করাও জরুরি হয়ে উঠতে পারে।