স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট এ কর্মশালার আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে একসঙ্গে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হওয়ায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হওয়ায় তারা আর্থিক দুর্ভোগে পড়েন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গর্ভকালীন সময়ে মা ও নারীদের যেন কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি বা হেনস্তার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তকরণে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কম খরচে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চ্যালেঞ্জ দূর করতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের প্রতিটি স্তরে পর্যায়ক্রমে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।
কর্মশালায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।