ভায়াগ্রা ও নিষিদ্ধ প্রসাধনসহ সোয়া কোটি টাকার পণ্য জব্দ

চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পৃথক অভিযান চালিয়ে ভায়াগ্রা ও আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমসহ ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব অভিযানে আকাশপথে দেশে এনে ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পাচারের একটি নতুন কৌশল উন্মোচিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন জানান, গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে এই পৃথক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা জাহাঙ্গীর নামের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ জব্দ করা হয়। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ভায়াগ্রার অপব্যবহার এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ইনসুলিনের মতো সংবেদনশীল ওষুধ দীর্ঘ পথ পরিবহনের ফলে তা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে গত মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরী ক্রিম’ এবং বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে আকাশপথে দেশে আনার পর এসব পণ্য বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুর রেলওয়ে মেইল সার্ভিস (আরএমএস) সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর অপচেষ্টা চলছিল।

দুই দিনের এ সাঁড়াশি অভিযানে সব মিলিয়ে ৫৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, ৭ হাজার ৭৮৭ পিস নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম, ৬৪ দশমিক ১৮ কেজি নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৬৮ কেজি অন্যান্য প্রসাধনসামগ্রী, ৫৫ দশমিক ৮ কেজি অবৈধ ওষুধ, ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৩২টি পুরোনো ল্যাপটপ, ৩টি মোবাইল ফোন ও ১৭ লিটার মদজাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অননুমোদিত ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলপথে কাস্টমস গোয়েন্দাদের কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।