চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের দাবিতে চলমান আন্দোলন, শাটডাউন ও অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যেই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য অংশ নেননি। তবে সভায় মোট কতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সভায় অংশ নেওয়া সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান বলেন, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য (ছয়জন) সভায় ছিলেন না। সভার বিষয়ে উপাচার্য নিজেই জানাবেন বলে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি।
চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে গত সোমবার সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ভবনের ভেতরে রেখেই ফটকে আবার তালা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের মুখে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ক্যাম্পাসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন উপাচার্য।
চুয়েটের সিন্ডিকেটে উপাচার্যসহ মোট ১৭টি সদস্যপদ রয়েছে। তবে সহ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য থাকায় বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ১৫। শুক্রবারের সভায় এই ১৫ সদস্যের মধ্যে কতজন অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সভায় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিন ছিল শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউনের ২৫তম দিন। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতি এবং অসহযোগ কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে।
সভা শেষে সিন্ডিকেটের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। তাদের একজন সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি কিংবা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়েও সদস্যরা মতামত দিয়েছেন।
চুয়েটের কোনো শিক্ষক না থাকা প্রসঙ্গে সিন্ডিকেট সদস্য ও চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান জানান, ছুটিতে থাকায় তিনি সভায় অংশ নেননি। অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল জানান, তার মা অসুস্থ থাকায় তিনিও যোগ দেননি।
অন্যদিকে চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক সুনীল ধর, নদী, বন্দর ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আসিফুল হক, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইব্রাহিম খানের মুঠোফোনে কল করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া চুয়েটের বাইরে আরেক সিন্ডিকেট সদস্য প্রকৌশলী ফিরোজ খাননূন ফারাজী জানান, ব্যস্ত থাকায় তিনি সভায় যোগ দিতে পারেননি।
সিন্ডিকেটের অন্য সদস্য বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আইনাল হক, প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সেকান্দার চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করা হলেও তারা ধরেননি।