চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর, দোকান ভাঙচুর, ব্যাংক চেক ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও যুগ্ম আহ্বায়কসহ চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে গত ১৪ অক্টোবর রাতে ফরিদগঞ্জ সদর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ছবুর পাটওয়ারী রুবেল (৪০), যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন চৌধুরী (৪০), রাজু পাটওয়ারী (৪২) ও আরিফ তপদার। স্থানীয় পাটওয়ারী বাজার এলাকার শোশাইরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন (৩৬) বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর বাবার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘এম.আর.কে ট্রেডার্স’-এর দোকান ও ভিটাসহ একটি পাকা বাড়ির ওপর ব্যাংকের দায় পরিশোধের জন্য সম্পত্তিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে বালিথুবা গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে শরিফুল ইসলামের (৩৮) সঙ্গে ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মোট মূল্যে এবং ২ লাখ টাকা বায়নায় ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর একটি বায়না চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির মেয়াদ পার হওয়ার পরও শরিফুল ইসলাম সম্পত্তি রেজিস্ট্রি না করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে বাদীর পিতা আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার নিয়ে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করেন এবং বায়নার ২ লাখ টাকা গত ৫ অক্টোবর শরিফুল ইসলামের ব্যাংক হিসাবে ফেরত জমা দেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বায়নার টাকা ব্যাংকে ফেরত দেওয়ার পরও ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটায় শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর দোকানে হামলা চালায়। বাদী কামাল হোসেন বাধা দিলে আসামিরা তাকে বেধড়ক মারধর করে দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় এবং গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সাক্ষীদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।
হামলাকারীরা দোকানে থাকা চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, ওজন মাপার স্কেল মেশিন ও সাটার ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং ক্যাশে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে। এ ছাড়া বাদীর বাবার স্বাক্ষরিত জনতা ব্যাংকের চারটি চেকের পাতা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যার একটিতে ১ লাখ ৩ হাজার টাকার অঙ্ক লেখা ছিল। পাশাপাশি বাদীর ব্যবহৃত ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি সুজুকি মোটরসাইকেল, গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বাদীর স্বজনের একটি দামি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে এলাকা ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে দিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান টিপু দাবি করেন, দলীয় চার নেতাকর্মী ঘটনার প্রায় শেষভাগে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা কোনো ধরনের মারামারি বা অপরাধে জড়িত ছিলেন না। তবে পুলিশের তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তা আইনের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি এরশাদ উল্লাহ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে চাঁদপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সার্বিক তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।