অতীতে যারা দিনের পর দিন হরতাল ও অবরোধ ডেকে দেশকে স্থবির ও অচল করে দিতে চেয়েছিল, বর্তমান বিরোধী দল তাদেরই রাজনৈতিক দোসর বা সঙ্গী বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাঁখারিপাড়ার ত্রিনয়নী পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভ সূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াই পার করে এখন দেশ গড়ার জীবনসংগ্রামে মনোনিবেশ করার সময় এসেছে; তাই দেশকে যেন পুনরায় কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তার বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘একসময় দেশে ১৭১ দিন, ৭২ দিন কিংবা ৭৩ দিন পর্যন্ত একটানা হরতাল দেওয়া হয়েছিল। যারা তখন এসব কর্মসূচি দিয়ে দেশ অচল করার ঘোষণা দিয়েছিল, আজকের বিরোধী দল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তাদেরই সঙ্গী হিসেবে কাজ করছে। এ বিষয়ে আমাদের অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা রাজনৈতিক যুদ্ধ শেষ করেছি, এখন বেঁচে থাকার ও এগিয়ে যাওয়ার জীবনসংগ্রাম চালাতে হবে। নতুন করে যেন আর কোনো রাজনৈতিক যুদ্ধে জড়াতে না হয়। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শান্তি ও সম্প্রীতি অটুট রেখে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করে একসঙ্গে বসবাস করাই আমাদের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।’
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দল হিসেবে জনগণের প্রতি আমাদের সুনির্দিষ্ট নৈতিক দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রয়েছে। একইভাবে বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, তাদেরও তো রাষ্ট্রের প্রতি সমপরিমাণ নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকার কথা। বর্তমান সরকার শপথ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিরোধী দল তাদের সেই দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছে, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে কেন লংমার্চ বা রোডমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে হবে?’
লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক ও পৌর মহাশ্মশান ঘাট সংসদের সভাপতি সম্রাট খীসার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, ত্রিনয়নী পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মানিক সাহা ও সভাপতি বিনয় ভূষণ মজুমদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।