আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু, লাশ হস্তান্তর নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে উত্তেজনা

সাভারের আশুলিয়ায় ডেকো গ্রুপের আগামী ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়া সুমি আক্তার (২৭) নামের ওই শ্রমিককে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ হস্তান্তর নিয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরোধ ও ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহত সুমি আক্তার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খোকড়াহাট এলাকার বজলুর মিয়ার মেয়ে। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। আগামী ফ্যাশন লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে কারখানার ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সুমি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমির স্বামী সাজ্জাদ হোসেন জানান, এক সহকর্মীর ফোনে স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে আমি কারখানার গেটে যাই। তবে প্রথমে আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে ভেতরে গিয়ে স্ত্রীকে অক্সিজেন লাগানো অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় কয়েকজন তার হাত-পা চেপে ধরে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বিকেল ৫টার দিকে গাড়িতে করে সুমিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাজ্জাদের দাবি, এর আগে তার স্ত্রী অসুস্থ ছিলেন না।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সুমির মৃত্যু হয়েছিল। বিষয়টি স্বজনদের না জানিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ তাদের। এ নিয়ে হাসপাতালে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বজনদের বিরোধ বাধে।

আগামী ফ্যাশন লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুমন জানান, মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা কারখানার এক কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে। পরে সুমির মরদেহ থানায় নেওয়া হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।