ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক বাগাড়ম্বর’ বলে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত যদি তার ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা’ থেকে সরে না আসে, তাহলে উপমহাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় রাজনাথ সিং বলেছিলেন, ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ভারত আগের চেয়েও কঠোর জবাব দেবে

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের হুমকি নিহিত রয়েছে। নয়াদিল্লিকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিপজ্জনক বাগাড়ম্বর পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য ভারতের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সৃষ্ট ঝুঁকিরই বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তান তার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের মোকাবিলায় পাকিস্তান কঠোর জবাব দেবে।

স্মরণ করা যায়, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে জঙ্গি হামলার পর মে মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। নয়াদিল্লির অভিযোগ ছিল, ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটককে হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানি। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভারতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

এরপর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকেই যুদ্ধের সূত্রপাত হয় বলে ইসলামাবাদের ভাষ্য। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের এই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়।

শনিবার গণমাধ্যমের সামনে ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গত বছরের মে মাসের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা ও দৃঢ় সংকল্প প্রদর্শন করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়; যেকোনো অবিবেচনাপ্রসূত আগ্রাসনের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার জন্য পাকিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, পাকিস্তানের সংযম ও শান্তির প্রতি অঙ্গীকারকে যেন দুর্বলতা বলে ভুল না করা হয়। যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।