উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ম্যানেজার গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোরশেদ ও তানভীরের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ চালায়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ছয়জন চিকিৎসাধীন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত ১০ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।

এ ছাড়া নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। অন্য দুই নিহত পর্যটকের নাম জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টটির নিরাপত্তাব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।