স্ত্রী ও নিজেকে শেষ করার আগে বাবা ও বাড়িওয়ালার নাম্বার অফিসে মেইল করেন আসলাম

ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি অভিজাত আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজের কর্মস্থলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে আত্মহত্যার চরম সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি বিদায়ী ইমেইল পাঠানোর পর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজেও সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ওই তরুণ আইটি পেশাদার।

পুলিশ জানায়, গত ১৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে দশটার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৬৮-এর বিলাসবহুল ‘এমথ্রিএম মেরিনা’ আবাসিক কমপ্লেক্সের ৭ নম্বর টাওয়ারের ১০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এক দম্পতির নিথর দেহ পড়ে থাকার তথ্য পায় পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশের একটি দল। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে স্ত্রীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে এবং সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা।

নিহত দম্পতির পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। মৃত যুবকের নাম মোহাম্মদ আসলাম (৩০) এবং তার স্ত্রী ফারহানা (২৮)। আসলামের বাড়ি বেঙ্গালুরুতে এবং তিনি গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৮-এর একটি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ফারহানা কেরালার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় গৃহিণী ছিলেন।

ঘটনার বিবরণে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেওয়ার ঠিক আগে আসলাম তার কর্মরত আইটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে একটি ইমেইল পাঠান। সেখানে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং তার বাবা ও বাড়ির মালিককে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করার জন্য তাদের মোবাইল নাম্বরও ইমেইলে উল্লেখ করেন। এমন চিঠি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফ্ল্যাটের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। তবে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর আগেই তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আসলাম প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পারিবারিক টানাপড়েনের জেরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।