ময়মনসিংহের ভালুকায় মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মৃত ওই ব্যক্তিকে মামলার আসামি করায় সংস্থাটির তদন্ত প্রক্রিয়া ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তার পরিবার বলছে, এটি ‘মৃত্যু নিয়ে তামাশা’।
গত ১৭ অক্টোবর ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, দ্বিতীয় আসামি সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এস এম ওমর আলী। তার বয়স ৭৩ বছর। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলায় তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাকে (৫৯) এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হোসনে আরা দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার স্বামী এস এম ওমর আলী পিআইও হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম ওমর আলী ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর মামলা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ওমর আলীর ভাই সাইফুর ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে একটা তামাশা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. বুলু মিয়া বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে মামলাটির অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছিল। তখন অভিযুক্ত ওমর আলীর মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জানা ছিল না।
দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় তার মৃত্যুর তথ্য কেন জানা যায়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ভাইরে, এটা তো ভুলও হতে পারে। এখন তদন্তের সময় তার নাম (মামলা থেকে) বাদ দেওয়া হবে।’