জিম্বাবুয়ের কাছে এমন হার, বিশ্বকাপে কী করবে বাংলাদেশ

আগামী বছর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরটি নিয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা অনেক। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজম্যান্ট সবাই চায় ভালো কিছু করতে। সবসময় ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট বলে আসছে বাংলাদেশ। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান কেমন, সেটা চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচের দিকে তাকালে আঁচ করা যায়। 

সিরিজের ট্রফি জেতার কথা বলা বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে। যদিও ধারাবাহিকতার অভাব দেশের ক্রিকেটে নতুন কিছু না। মাঠে বসে দলের এমন হতাশাজনক হাত দেখেছেন তামিম ইকবাল। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসেন বিসিবি বস।

বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের কাছে এমন হার দলকে মানসিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আহমেদ বলেন, 'বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ ও ২-১ টা সিরিজ ছাড়া আর বেশি তেমন সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তার আগে এসব ম্যাচ না জিতলে আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। তবে সামনে ঘুরে দাঁড়াতে পারলে, স্টিল পসিবল তবে আমরাও খারাপ দল না। ধারাবাহিকতার অভাব। আর গেম আওয়ারনেস বিল্ড করতে হবে। ম্যানেজমন্ট থেকে খেয়োয়াড় সবাই এটা নিয়ে কাজ করছে।'

গেল কয়েক বছর ধরে বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিক থাকলে ব্যাটিংয়ে তার ছিটেফোটাও নেই। হাতে গোনা দুই-একটা ম্যাচে বড় পাটনারশিপ করলেও বেশির ভাগ ম্যাচেই তা করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের ব্যাটাররা। প্রথম ম্যাচে সিরিজের ফাইনাল অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য। তবে তাসকিন বিশ্বাস করেন, এখানো ফাইনাল খেলার সুযোগ আছে তাদের। বলেন, 'আমরা ভালো খেলিনি। একটা পার্টনারশিপও করতে পারিনি। একটা পার্টনারশিপ হলেও ম্যাচ বের হয়ে যেত। ব্যাটিংয়ে নিয়মিত ভুল হচ্ছে। বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা তা-ও কিছুটা ভালো করি। এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। চাইবো ভালোমতো ফাইট ব্যাক করে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।' 

ইনুজরির কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গিয়েছেন দলের নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস। এছাড়াও জ্বরের কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজ। এই দুই খেলোয়াড় না থাকায় ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, বিষয়টি নিয়ে তাসকিন বলেন, 'এটার তো কোনো হাত নাই। যে কেউ যেকোনো সময় ইনজুরিতে পড়তে পারে। লিটন আমাদের সেরা ব্যাটার, কোনো সন্দেহ নেই। ইনজুরির কারণে এই টুর্নামেন্টেই হতয় খেলতে পারবে না। মিরাজ-লিটন দুই জনই আমাদের মূল দুই খেলোয়াড়। তারপরও আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।' 

ধারাবাহিক ভাবে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে টাইগার পেসার বলেন, 'গেম আওয়ারনেলের লেকিং একটু বেশি। স্কিল তো সবার আছে। যারাই দেখেন, প্রত্যেক ব্যাটার নিজেকে আগে প্রমাণ করেছে তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে দেখভেন চাপে পড়লে কলান্স করি। বড় দল হতে হলে এখন থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে কাজ করছি কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।'