মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ফলে মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন।
ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় ইশরাক হোসেন তার লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করার পর মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন এবং এ ঘটনায় কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তবে দলের ভাবমূর্তি ও সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান ইশরাক হোসেন। সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।