আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ না করে রান্না করে খাওয়ানো বেশি উত্তম

সন্তানের জন্মের পর আকিকা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আমল। জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করাকে মুস্তাহাব বলা হয়। তবে কোনো কারণে নির্ধারিত দিনে তা করা না গেলে পরেও আকিকা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সপ্তম দিনের হিসাব অনুসরণ করা উত্তম। উদাহরণস্বরূপ, বুধবার কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলে পরবর্তী সপ্তাহের মঙ্গলবার তার আকিকা করা উচিত।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, আকিকা সপ্তম দিনে হওয়া উচিত। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে এবং তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৭৬৬৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত কর (অর্থাৎ পশু জবাই কর) এবং সন্তানের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (চুল) দূর করে দাও। (বুখারি, হাদিস : ৫৪৭২)

ছেলের আকিকার ক্ষেত্রে ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল বা খাসি এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল বা খাসি জবাই করা মুস্তাহাব। আকিকার উদ্দেশ্যে পশু জবাই করার দ্বারাই আকিকা আদায় হয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকীকার পশু জবাই করা হবে, তার মাথার চুল মুণ্ডন করা হবে, এবং তার নাম রাখা হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৮)

আকিকার গোশত বিতরণের ক্ষেত্রে কাঁচা বিতরণ করা কিংবা রান্না করে খাওয়ানো উভয়টি জায়েজ। তবে গোশত রান্না করে খাওয়ানো উত্তম। আয়েশা (রা.) বলেন, আকিকার গোশত টুকরো টুকরো করে কেটে রান্না করে নিজে খাবে এবং অন্যকে খাওয়াবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদিস: ২৪৭৪৪)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, আকিকার গোশত কাঁচা না দিয়ে বরং রান্না করে দেওয়া উত্তম। ইবনে কুদামা রহ. বলেন, যদি আকিকার গোশত রান্না করে ভাই-বেরাদারকে (আত্মীয়-স্বজনকে) দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়, তাহলে সেটিই উত্তম। তাই আকিকার গোশত কাঁচা বিতরণ না করে বরং রান্না করে খাওয়ানো বেশি উত্তম।