কণ্ঠ বদলে গেছে সেলেনা গোমেজের, কারণ জানালেন শিল্পী

নিকোটিনযুক্ত ভেপ ব্যবহারের কারণে নিজের কণ্ঠস্বরের ধরন বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ৩৪ বছর বয়সী এই শিল্পী এ তথ্য জানান। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সেলেনা গোমেজ বলেন, 'আমি আমার কণ্ঠস্বর আর বদলাতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।'

নিকোটিন ছেড়ে দেওয়া খুবই কঠিন উল্লেখ করে মার্কিন সংগীতশিল্পী বলেন, ‘যারা নতুন ভেপ করার কথা ভাবছেন তাদের বলব, এটা মোটেও ভালো জিনিস নয়। এটা ভীষণ বোকামির কাজ, এর কারণে আমার গলাটাই বদলে গেছে।’

এরপর হেসে তিনি বলেন, 'তাই আপনারা যদি আমার কণ্ঠস্বর শুনতে পছন্দ না করেন, তাহলে সেটা পুরোপুরি বোধগম্য। আমি কিছু মনে করব না। শুধু আমার কণ্ঠস্বর শুনবেন না।'

দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ লুপাসে আক্রান্ত সেলেনা এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই রোগ তার স্বরযন্ত্রে প্রভাব ফেলছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সেলেনার কণ্ঠস্বর আরও গভীর হয়েছে, যা অস্বাভাবিক নয়। তবে তার কণ্ঠস্বরের এই পরিবর্তন নিয়ে কিছু ভক্ত বারবার আলোচনা করেছেন। ইউটিউবে তার কথা বলার ধরন কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে, তা তুলে ধরে সংকলিত ভিডিও প্রকাশ করেছেন তারা।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওতে 'অনলি মার্ডারস ইন দ্য বিল্ডিং' সিরিজের এই তারকা জানান, সম্প্রতি তিনি নিকোটিনের ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, 'আমি সত্যিই খুব খুশি, কারণ আমি এটা ছেড়ে দিয়েছি। আমি শুধু আশা করি, এটা ধরে রাখতে পারব।'

তিনি আরও বলেন, 'এটা সত্যিই কঠিন। তবে আমি জানি, আপনি যদি কোনো কিছুর মধ্য দিয়ে যান, তাহলে আপনিও তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এটা খুবই কষ্টকর।'

ভেপিংয়ের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রমাণ এখন আগের তুলনায় কিছুটা স্পষ্ট হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো জানা যায়নি।

এর আগে, ২০১৭ সালে সেলেনার বন্ধু ফ্রান্সিয়া রাইসা তাকে নিজের একটি কিডনি দান করেন। ফলে তার লুপাস রোগ কিছুদিনের জন্য নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২২ সালের তথ্যচিত্র ‘সেলেনা গোমেজ: মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি’তে তিনি জানান, ২০২০ সাল থেকে রোগটি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল।

তিনি সেসময় বলেছিলেন, ‘আমার লুপাস ধরা পড়েছিল এবং কেমোথেরাপিও নিয়েছি। মানসিকভাবে সুস্থ না হয়ে ওঠা পর্যন্ত সবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলাম।’

লুপাস রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে, হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা, জ্বর, গায়ে ফুসকুড়ি, বুকে ব্যথা, চুল পড়া, কিডনির সমস্যা ও প্রচণ্ড ক্লান্তি।