শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার (৪০) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে জিম্মি করে মুঠোফোন থেকে চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং টাকা না দিলে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ সদরের ‘ঢাকা আবাসিক হোটেল’-এর দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মালিক আতাউর রহমান ও ব্যবস্থাপক মামুন পলাতক রয়েছেন।
নিহত আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাবিড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে গাজীপুরের বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ার চামটা এলাকায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পরবর্তীতে তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে পরিবারকে জানান। কিন্তু সোমবার তার মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর কাছে ফোন করে চিকিৎসার অজুহাতে দুই দফায় ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বজনেরা তার অবস্থান জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে আবুল বাশারের শুয়ে থাকার একটি ছবি পাঠানো হয় এবং টাকা না দিলে লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশের সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভেদরগঞ্জে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশ হোটেলে অভিযান চালিয়ে শিক্ষক আবুল বাশারের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শিক্ষকের ভাগিনা কবির হোসেন এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একটি ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত শিক্ষকের ফোন থেকে কারা টাকা দাবি করেছিল এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের পালিয়ে যাওয়ার পেছনে কী রহস্য রয়েছে—তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।