শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে সপরিবারে বেড়াতে যাওয়ার আনন্দমুহূর্ত মুহূর্তেই এক বুকফাটা ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল। নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংক মাগুরা শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম এবং তার কন্যাসন্তান তাছফিয়া খাতুন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এই পরিবারের সঙ্গে থাকা আদরের পোষা পার্শিয়ান বিড়ালটিও শেষ রক্ষা পায়নি; ঘটনাস্থলেই সেটিরও মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় শহীদুলের ব্যাংক কর্মকর্তা স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া ছেলে গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরদারপাড়া (সরকারপাড়া) এলাকায় এ রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘আরপি নাইস পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে বাসে ওঠেন শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম। পরবর্তীতে কর্মস্থল মাগুরা থেকে তাদের সঙ্গে একই বাসে যোগ দেন শহীদুল ইসলাম। পুরো পরিবারের গন্তব্য ছিল রাজশাহী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তবে ভোররাতে নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌঁছাতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের বহনকারী বাসটি।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শিশু তাছফিয়া স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে গুরুতর আহত শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। চিকিৎসাধীন তাদের বড় ছেলে মো. লাবিব সুবিদখালী আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
নিহত শহীদুলের ফুফাতো ভাই সুজন হাওলাদার জানান, নিহত বাবা ও মেয়ের মরদেহ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যে বাড়িতে চারজনের একসঙ্গে হাসিমুখে স্বজনদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেখানে এখন বাবা-মেয়ের নিথর দেহ পৌঁছানোর অপেক্ষায় পুরো গ্রামজুড়ে মাতম ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।