নাটোরে দুর্ঘটনায় নিহতদের পাঁচ জন জাজিরার ব্যবসায়ী, এলাকায় শোকের ছায়া

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকায় গতকাল যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে যে ১২ জন নিহত হয়েছেন তাদের পাঁচ জন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী। ব্যাবসায়িক কাজে রাজশাহীর তাহেরপুরে যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হন।

নিহতরা হলেন জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহিরউদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর (৪০), ডুবিসায়বর মোল্যাকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মোল্যার ছেলে সালাল মোল্যা (৪৬), ডুবিসায়বর কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার (৩০), কাজিরহাট এলাকার ভুসামাল ব্যবসায়ী সামাদ ফকির (৭০) এবং পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকার রাজ্জাক বেপারীর ছেলে হলুদ ব্যবসায়ী শাহিন আহমেদ বেপারী (৩২)।

নিহত জুয়েল মাদবর ভুসামাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ভুসামাল ব্যবসায়ী এবং শাহিন বেপারী হলুদ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ব্যবসা করতেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তারা রাজশাহীর তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন। সেখানে ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া ও অন্যান্য কৃষিপণ্য কেনার কথা ছিল তাদের। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

পাঁচ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ‘ব্যবসার কারণে তাদের সবার সঙ্গেই আমার পরিচয় ছিল। তাদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তাদের এমন মৃত্যুর খবর খুবই কষ্টদায়ক।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জেনেছি। তবে এখনো নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মরদেহ জাজিরায় নিয়ে আসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’