পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের সমস্যা। আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক আচরণে বারবার বিতর্কিত হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট। এ সমস্যা দূর করতে অতীতে বিভিন্ন বোর্ড নানা উদ্যোগ নিলেও ঢাকার ক্রিকেট থেকে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিং পুরোপুরি দূর হয়নি। এবারের তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটের একটি ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতা সামনে এনেছে।
তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমির বিপক্ষে রানআউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। এ ঘটনায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলেও জানা গেছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আম্পায়ারিং প্রভাবিত করার অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ আছে তাদের। এ ঘটনার পর ম্যাচের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট আম্পায়ারকে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে আর কোনো ম্যাচ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে এসব বিতর্ক এড়াতে এর আগে মাঠে ক্যামেরা বসিয়েছিল ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। এবার আরেক ধাপ এগিয়ে ড্রোন ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসিডিএম। ম্যাচ চলাকালীন মাঠে নজরদারি বাড়াতে এই মৌসুমেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা মূল্যের কয়েকটি ড্রোন ক্যামেরা কিনবে তারা। ঢাকার সব ধরনের ক্রিকেটেই এগুলো ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। আম্পায়ারিং নিয়ে কোনো বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হলে ড্রোন ক্যামেরার ফুটেজ দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সিসিডিএম।
সিসিডিএমপ্রধান মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই, মাঠের সব মুহূর্তই যেন ক্যামেরাবন্দী থাকে, যাতে সব ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এ জন্য আমরা কয়েকটা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেগুলো পুরো ম্যাচে মাঠে কী কী ঘটনা ঘটে, সেসব ক্যামেরায় ধারণ করবে।’
আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে বসবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী আসর। তার আগে তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ের পর ১৫ নভেম্বর শুরু হবে ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগ। তার আগেই ড্রোনগুলো কিনতে চায় বিসিবি। শুধু ড্রোনই নয়, প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমে এডিআরএস এনে রিভিউ সিস্টেমও চালু করার পরিকল্পনা বিসিবির। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে তাতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন ক্রিকেটাররা।