ক্রিকেটে গ্লেন ম্যাকগ্রার নাম মানেই নিখুঁত লাইন ও লেংথের এক অনন্য উদাহরণ। অস্ট্রেলিয়ার সোনালি যুগের এই পেসারকে সামলাতে হিমশিম খেতেন ব্যাটসম্যানরা। অনেকের ক্যারিয়ারই শেষ হয়েছে তার বোলিংয়ের সামনে লড়াই করতে করতে। এবার সেই কিংবদন্তি ম্যাকগ্রাকে পেছনে ফেলে নতুন কীর্তি গড়লেন মিচেল স্টার্ক।
দক্ষিণ আফ্রিকার গেবেখায় টেস্টের তৃতীয় দিনে ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটা নতুন করে লিখলেন অস্ট্রেলিয়ার ৩৬ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। টেস্টে ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ভেঙে দিলেন ম্যাকগ্রার দীর্ঘদিনের এক রেকর্ড।
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে উইয়ান মুল্ডারকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৫০তম উইকেটটি পান স্টার্ক। তার বলে ম্যাট রেনশর চমৎকার ক্যাচ। আর তাতেই ইতিহাস!
টেস্ট ক্রিকেটে বলের হিসাবে দ্রুততম ৪৫০ উইকেটের মালিক এখন স্টার্ক। ম্যাকগ্রার লেগেছিল ২৩ হাজার ৪৭৪ বল। স্টার্কের মাত্র ২০ হাজার ৫৭৭। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসারের চেয়ে ২ হাজার ৮৯৭ বল কম ডেলিভারি দিয়েই এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন স্টার্ক।
ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভাঙাই অবশ্য শেষ কথা নয়। স্টার্ক এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড় শ বছরের ইতিহাসে আর কোনো বাঁহাতি বোলার পারেননি। টেস্টে ৪৫০ উইকেট নেওয়া প্রথম বাঁহাতি বোলার তিনি।
ওয়াসিম আকরামের মতো সুইংয়ের জাদুকরও যেখানে পৌঁছাতে পারেননি, সেখানে পৌঁছে গেলেন স্টার্ক। পাকিস্তানের কিংবদন্তি আকরামের টেস্ট উইকেট ৪১৪টি। শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের ৪৩৩টি। দুজনকেই ছাড়িয়ে স্টার্ক এখন বাঁহাতি বোলারদের একক রাজা।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসেও ৪৫০ উইকেটের ক্লাবটা খুব ছোট। এত দিন সেখানে ছিলেন মাত্র তিনজন। শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও নাথান লায়ন। এবার তাদের পাশে স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বোলার হিসেবে ছুঁলেন এই মাইলফলক।
তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে বাভুমাকেও ফিরিয়েছেন স্টার্ক। তাতে তার টেস্ট উইকেটসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৫১।