ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে কুমিল্লার লাকসামে লাইনচ্যুত ইঞ্জিনসহ মোট পাঁচটি বগি রেখে ঢাকার পথে যাত্রা করেছে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ট্রেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ট্রেনটি লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন ত্যাগ করে।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় চট্টগ্রাম থেকে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার পর আপলাইন বন্ধ রেখে ডাউনলাইনে উভয়পথের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ট্রেনের শিডিউলে কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। উদ্ধার কাজ শেষে পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করবে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নাওটি স্টেশনের আউটার এলাকায় কর্ণফুলী ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাস্থলে রেলকর্মীরা লাল পতাকা টানিয়ে রেললাইন মেরামতের কাজ করছিলেন। ওই স্থানে ট্রেনটি ধীরগতিতে চলার কথা থাকলেও পূর্ণগতিতে চলায় পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেন থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে এবং আঘাত পেয়ে কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
এ বিষয়ে ট্রেনটির লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন,
লাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে ‘লাইন ক্লিয়ারের’ সংকেত নিয়েই লাকসাম স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমাকে কোনো কশন অর্ডার, কোনো কিছুর রেস্ট্রিকশন দেওয়া হয় নাই। লাইনে কাজ হচ্ছে বা কাজ চলমান- আপনি দেখে শুনে যাইয়েন, এই ধরণের কোনো মাস্টারও বলে নাই, কোনো স্টেশন মাস্টারও বলে নাই, এমনকি গার্ডও বলে নাই।
বিষয়টি কেউ জানেও না দাবি করে তিনি বলেন, আমার অথরিটি কন্ট্রোল বা এই যে এরা কাজ করতেছে লাইনে, এটা কেউ জানে না।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার নরমাল স্পিডে আসতেছি, হঠাৎ করে আমার সামনে, ১০০ মিটার দূরে দেখি লাল ব্যানার ফ্ল্যাগ। তা দেখে আমি হুইসেল বাজাইতেছি, আমার গাড়ি দাঁড় করানোর জন্য আমার যত চেষ্টা করছি। গাড়ি দাঁড়াইতে দাঁড়াইতে সামনে আইসা দেখি লাইন বিচ্ছিন্ন, এরা কাজ করতেছে, লাইন আউট…”
একইভাবে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেলওয়ের কন্ট্রোল রুম ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগাম না জানিয়ে রেললাইন মেরামতের সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে এ দুর্ঘটনায় ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ চারটি কোচের চাকা লাইন থেকে নেমে যায়। তবে এতে কোনো যাত্রী হতাহত হননি বলে দাবি রেলওয়ের।
এদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুর্ঘটনার কারণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের বিষয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে আরও জানায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজ শেষে বুধবার রাত ৯টার মধ্যে রেল চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রেলওয়ে।