সৌদিতে আটকে পড়া ৩৩ ওমরাহ যাত্রী দেশে ফিরেছেন

সৌদি আরবের রিয়াদে হুতিদের হামলায় আটকে পড়া ৩৩ ওমরাহ যাত্রী দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশে ফিরেছেন এসব ওমরাহ যাত্রী। সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া সৌদিতে আটকেপড়া এসব হজযাত্রীকে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের পক্ষে মেহমনাদারি করানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাদেক হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হজ পরিচালক লোকমান হোসেন, মুফতি আ ফ ম আকরাম হোসাইন, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, হাফেজ মাওলানা তোফায়েল আহমদ ও মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সেখানে মোট ৪৫ জনের কাফেলা ছিল। হামলার ঘটনায় ওমরাহ কাফেলার ৩৩ সদস্য দেশে ফিরলেও আরও ৭ জন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশি আলেম মুফতি নাসরুল্লাহ বদর (রহ.) মারা গেছেন। তার মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফনের বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চলছে।

এদিকে, হামলার পরপরই ফেসবুক লাইভে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন ওমরাহযাত্রী মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমী। পরে মক্কার একটি হোটেল থেকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীরা। হামলার পর থেকে কাফেলার সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনা, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজ মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীর সন্ধান ও মুক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।

ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমেদ বলেন, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ আমাদেরকে সৌদি ফেরত হজযাত্রীদের দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা কয়েকজন বিমানবন্দরে গিয়ে তাদের তত্ত্বাবধান করেছি। এমনকি ধর্মমন্ত্রী তাদের জন্য রাতের বেলা খাবারের আয়োজন করেন। সেইসঙ্গে হজযাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও ধর্মমন্ত্রী করেছেন।