চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আনোয়ার হোসেন ইংরেজ (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার শাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি মারা যান। একই দিন বুকে ব্যথা অনুভব করায় কারাগার থেকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রাত ১১টা ২৮ মিনিটে ভর্তি করা হয়েছিল।
আনোয়ার হোসেন ইংরেজ (৬০) চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র স্কুলপাড়ার মরহুম আমিরুল ইসলামের ছেলে ও শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি কয়েদি নম্বর ৪০৭০/এ হিসেবে কারাগারে ছিলেন। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগারে আসেন।
কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উচ্চ রক্তচাপ (এইচটিএন) ও ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে (আইএইচডি) আক্রান্ত আনোয়ার হোসেন গত ১৭ অক্টোবর থেকে কারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুসনদে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম (এসিএস), ডায়াবেটিস মেলিটাস (ডিএম), ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা (বি.অ্যাজমা) ও উচ্চ রক্তচাপের (এইচটিএন) উল্লেখ রয়েছে।
কারাগার সূত্রে আরও জানা যায়, পেনাল কোডের ৩২৪ ধারার একটি মামলায় আদালতের বিচারক আনোয়ার হোসেনকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে আসেন। বিধি অনুযায়ী, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়াহেদ মাহমুদ রবীন জানান, ২১ অক্টোবর হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদী আনোয়ার হোসেন ইংরাজের মৃত্যু হয়েছে। কারা বিধি মোতাবেক তার সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্তের পর তার পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আনোয়ার হোসেন একটি মারামারি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ৩০ সেপ্টেম্বর জেলখানায় আসেন। বুধবার রাতে উনি খুব অস্থিরতা অনুভব করেন। এসময় তাকে কারাগারের গাড়িতে করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি এক ঘণ্টা পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করার পর চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।