পাবনার সাঁথিয়া পৌর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব মুজাহিদ ফকিরের ফেসবুক স্টোরিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি আপলোড করার প্রায় এক ঘণ্টা পর তা মুছে ফেলা হলেও, ইতোমধ্যে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। নেটিজেনরা ওই নেতার আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো বলেও দাবি করছেন এনসিপি অন্য নেতাকর্মীরা।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের অংশ দৃশ্যমান। এদের মধ্যে একজন মেঝতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পর অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছেন। তবে ভিডিওতে কারও মুখমণ্ডল স্পষ্ট নয়।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন জনমনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী এমন ঘটনায় পদ হারিয়েছেন। মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা হয়ে ঘনঘন এমন পোস্ট দিচ্ছেন। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে এমন ছবি-ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যা পরে খেলনা পিস্তল হিসেবে প্রমাণিত হয়। তবে সদ্য প্রকাশিত ভিডিওটি আসল অস্ত্রের কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ওসি আরও জানান, ভিডিওর অস্ত্রটি আসল হলে তার বৈধতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পোস্ট দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ভাইরাল হওয়া অস্ত্রের ভিডিও সম্পর্কে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলে মুজাহিদ ফকিরের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল জানান, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে ভিডিওটি দেখিনি। মুজাহিদের ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি।