ভারত সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ছবিকে কেন্দ্র করে অনেকেই আম্বানিকে ভারতের ‘প্রকৃত ক্ষমতাধর’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ইলন মাস্কের পুরোনো মন্তব্য ফের সামনে এনেছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। এতে জামনগরে আম্বানির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে বসে কথা বলতে দেখা যায় রুবিওকে।
ভারত সফরের দ্বিতীয় দফায় মুম্বাই ও জামনগর যান রুবিও। সফরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
ছবিটি প্রকাশের পর এক্সে অনেকে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ এবং ‘ভারতের ডি ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করেন। কেউ কেউ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আম্বানির বৈঠককে ভারতের রাজনীতি ও বড় কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে অনেকে এটিকে নিছক ব্যবসায়িক বৈঠক হিসেবেও দেখেছেন।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইলন মাস্কের করা পুরোনো মন্তব্য। চলতি মাসের শুরুতে ভারতের বাজারে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে আম্বানির সঙ্গে বিরোধের জেরে মাস্ক প্রশ্ন তুলেছিলেন, আম্বানিই কি ভারতের ‘প্রকৃত বস’? পরে তিনি ব্যঙ্গ করে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলেও সম্বোধন করেন।
মাস্কের ওই মন্তব্যের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘ভারতে স্বাগতম, ইলন। অন্য লোকটির কথা জানার পর অপেক্ষা করুন।’ মাস্ক জবাবে বলেন, ‘ধন্যবাদ রাহুল। বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক।’
রাহুল গান্ধীর মন্তব্যটি গৌতম আদানিকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। ভারতীয় কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আদানির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে আসছে।