সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের আইফোন হ্যাক করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে গোপন সুবিধা গ্রহণ ও কোটি কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল পরিচালন সংক্রান্ত তথ্য উন্মোচন করেছে ডাচ গোয়েন্দা সংস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিউ রিপাবলিকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান (এমবিজে), সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের সহায়তায় প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি গোপন তহবিল তৈরি করা হয়েছিল, যার স্বাক্ষরকারী হিসেবে ছিলেন কুশনার।
দুবাই ফার্স্ট ব্যাংকে থাকা ওই হিসাবটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অজারবাইজান হয়ে সংগৃহীত অর্থ স্থানান্তর ও গোপন গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা করা হতো। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কুশনারকে এমন ক্ষমতার অনুমোদন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
এছাড়া ২০১৮ সালের দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিশেষ পরামর্শে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইসরায়েলে কুশনারের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আরও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত রাখা হয়, যা থেকে সাইপ্রাসের হিসাবের মাধ্যমে অর্থ তুলতেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করার সময় মোট ২ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অর্থ পেলেও মার্কিন কর বিভাগ (আইআরএস) বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তিনি বিদেশি এজেন্ট হিসেবে এসবের কোনো বিবরণ দাখিল করেননি।
তবে কুশনারের আইনজীবী এসব অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো দাতব্য তহবিল বা ব্যাংকিং সুবিধার বিষয়ে ট্রাম্পের জামাতার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড এম ফ্রিডম্যানও উক্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।
সূত্র: দ্য নিউ রিপাবলিক