বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চ এখন টোকিও। জাপানের রাজধানী টোকিওর একটি হোটেলে এএফসির কংগ্রেস। আজ শেষ দিনে কংগ্রেসে যোগ দিবেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। গতকালই টোকিওতে এসেছেন তিনি। টোকিওর ব্যস্ত শহরে পাঁচ তারকা হোটেল জমজমাট। বিভিন্ন দেশের ফুটবল সভাপতিরা হাজির। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আগে ইনফান্তিনো এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশের সঙ্গে কথা বলেছেন। ২১১টি দেশের মধ্যে ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে এশিয়া। ভোটের বড় একটি ব্যাংক।
ইনফান্তিনো চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতির পদে নির্বাচন করার জন্য পৃথিবী ঘুরছেন। দ্বারে দ্বারে ভোটের জন্য প্রার্থনা করছেন। ১৯৭৪ সালে ফিফার নির্বাচনের পর আজ পর্যন্ত কোনো সভাপতি দায়িত্বকালীন অবস্থায় নির্বাচন করে হারেনি। ইনফান্তিনোর চোখে সেই শঙ্কা ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই ভোটের জন্য দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন।
ফিফার নির্বাচনে ফ্রান্স, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা ইতালির যতটা গুরুত্ব ঠিক একই ভাবে সমান গুরুত্ব ভুটান কিংবা বাংলাদেশের মতো দেশের। সবারই একটি ভোট। তাই কয়েক দিন আগে ইনফান্তিনো ভুটানে গিয়েছিলেন। ভুটান ঘুরে গেলেও বাংলাদেশে যাননি। বাংলাদেশের সঙ্গে ভোট নিয়ে যতটুকু কথা বলার তা নাকি বিমানবন্দরে বসেই শেষ করে ফেলেছেন। ভুটানকে বুঝাতে ভুটানে যেতে হয়, আর সেই যাওয়া আসার ফাঁকে বিমান যাত্রা বিরতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করে নেওয়াটাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন ইনফান্তিনো।
ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো এবার মহাবিপদে পড়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ঘোষণা দিয়েছিলেন আগামীতে কারা চালাবেন বিশ্বকাপ। এক কথায় বিশ্বকাপটা বিক্রি করে দিতে চেয়েছিলেন। সেই ঘোষণায় পুরো ইউরোপীয়ান ফুটবল ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে চলে যায়। একে একে বিভিন্ন ফুটবল অঞ্চল ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। পরে ইনফান্তিনো তার অবস্থান থেকে সরে গেলেও ইউরোপিয়ান অঞ্চল কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার অঞ্চলও নড়বড়ে। এশিয়ার ভোট নিশ্চিত করতেই মূলত এএফসির কংগ্রেসে হাজির হয়েছেন ইনফান্তিনো। এখানে একসঙ্গে ৪৭ দেশের প্রতিনিধিদের পাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশ থেকে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এসেছেন টোকিওতে, সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এসেছেন। এএফসির সভাপতি শেখ সালমান বিন খলিফার সঙ্গে বৈঠক করবেন কীভাবে নিজের অবস্থানকে শক্ত করা যায়। শেখ সালমান ফিফার নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে। তাকে হাতে নেওয়ার জন্যই গতকাল আলাদা করে বৈঠক হয়েছে বলে গুঞ্জন, অন্যপক্ষ বলছে সালমানের সঙ্গে কথাই হয়নি ইনফান্তিনোর। বাংলাদেশের ফুটবল কর্তারা নিজ উদ্যোগে ইনফান্তিনোর সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছেন। ইনফান্তিনো সময় পাবেন কিনা তা বলা যাচ্ছে না।
আগামী ৬ ডিসেম্বর ফিফার কংগ্রেস কাতারের দোহায়। আর ১৮ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত হবে কারা নির্বাচন করবেন। কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের সময় সমালোচনা ছিল। ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো সব সমালোচনা কঠোর পরিকল্পনায় জবাব দিয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপ না হওয়ার পেছনে কিছু ইন্ধন তৈরি হয়েছিল। সেবার কূটকৌশল দিয়ে ইনফান্তিনো সেগুলো কাটিয়ে ওঠতে ক্ষতে মলম দিয়েছিলেন। যেন কাতার বিশ্বকাপটা ঠিকঠাক মতো হয়। সেই কৃতজ্ঞতার কথা মধ্যপ্রাচ্যের শেখ সালমান ভুলে যাননি। ঋণ শোধ করার সময় এসেছেন শেখ সালমানদের হাতে। তবে সালমানদের কথার সুর অন্যরকম। শেখ সালমান বলেছেন তারা আমাদেরকে ভাঙ্গতে চেয়েছিল। তিনি কংগ্রেসে বলেছেন আমরা কারো বিরুদ্ধে নই। কারো পক্ষেও নেই। ফুটবলের জন্য কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ, আমরা সেটা দেখব।'
এবারের কংগ্রেসে সাংবাদিকদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সদস্যরা আশংকা করছেন কংগ্রেসে কি হয় কে জানে। ২১১ ভোটের মধ্যে ইনফান্তিনোর হাতে ৮৭ ভোট নিশ্চিত আছে। আফ্রিকান অঞ্চল অনেকটাই ইনফান্তিনোর হাতে। আর এশিয়া যদি হাতে চলে আসে তাহলে ভোটের হিসাব সহজ হতে পারে। অবশিষ্ট ভোটের নিশ্চয়তা পেতেই ইনফান্তিনো ঘুরছেন প্লেনে প্লেনে।