সড়ক নির্মাণে ১৩ বছর পার, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জন দুদকের জালে

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) খুলনা দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার ‘মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে’ খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে-যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি একনেকের সভায় ওই সড়ক নির্মাণে দীর্ঘ ১৩ বছরের নজিরবিহীন বিলম্বের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সাবিরুল আলম ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হলেন, ‘আতাউর রহমান খান লিমিটেডের’ চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি ‘মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান।

খুলনা দুদকের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, কমিশন মামলা করার জন্য অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এখন মামলা হয়নি, শিগগিরই মামলা দায়ের করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে শুরু হওয়া খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। বরং প্রকল্প ব্যয় ৯৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটিতে। এরই মধ্যে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুদক।