মাদক ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে বিএনপির জিরো টলারেন্স নীতি

নীতি, আদর্শ ও জনস্বার্থের প্রশ্নে বিএনপি কোনো ধরনের আপস করবে না। মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দলটির অবস্থান জিরো টলারেন্সের জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তার দায় বিএনপি নেবে না। বরং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী বিচারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ।

দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার নয়; রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা। যারা রাজনীতিকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে চায়, তারা রাজনীতির আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, বিএনপি একটি জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক দল। এই দলের রাজনীতি হচ্ছে মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে। তাই দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক কারবার কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে কোনো ধরনের দ্বিধা থাকার কথা নয়। দলের পরিচয় অপরাধের লাইসেন্স নয়, রাজনৈতিক পদ অপরাধের ঢাল নয় এবং কোনো নেতাকর্মীই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

তিনি বলেন, মাদক শুধু একটি আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়; এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, পারিবারিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিবেশ নষ্ট করে। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা দলীয় প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা মাদক কারবারের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনগত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সুরক্ষা দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কাউকে মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলে আসছে। সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দলের নেতাকর্মীদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে দলের ঘোষণা, নেতৃত্বের নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তির অপকর্মের কারণে সাধারণ নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া উচিত নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ, পেশাদার এবং জবাবদিহিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার রাজনৈতিক পরিচয় বা বিরোধের কারণে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে—অপরাধের বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।

তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ চালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে।

মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার—জনগণের ওপর জুলুম করে, ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ সুবিধা নিতে পারবে না। চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করলেই হবে না; অপরাধের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। অপরাধের মূল উৎস অক্ষত রেখে শুধু দৃশ্যমান কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, পরিবহন ব্যয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বেড়ে গেলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। সাধারণ মানুষ যখন সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খায়, তখন চাঁদাবাজি, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য তাদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ, প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি।

তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেই হবে না; বাস্তবসম্মত সমাধানও সামনে আনতে হবে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সুরক্ষা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হবে। কারণ একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনা কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ যথেষ্ট নয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোও চিহ্নিত করতে হবে। বেকারত্ব, হতাশা, দক্ষতার অভাব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক তরুণকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, যেসব তরুণ মাদকাসক্তি, হতাশা কিংবা অপরাধপ্রবণতার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য পেশাদার কাউন্সেলিং, মানসিক সহায়তা, পরিবারভিত্তিক পরামর্শ এবং প্রয়োজনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। মাদকাসক্তিকে শুধু অপরাধের দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না; আসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে যারা মাদক উৎপাদন, সরবরাহ ও বাণিজ্যিক কারবারের মাধ্যমে তরুণদের জীবন ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ—এই দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, তরুণদের জন্য এমন কর্মসংস্থান কৌশল গ্রহণ করতে হবে, যাতে তারা সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল দক্ষতা, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ এবং বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু চাকরির প্রতিশ্রুতি নয়, বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পাওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের সামনে বৈধ উপার্জন, আত্মমর্যাদা ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বাস্তব পথ তৈরি করা গেলে অপরাধের আকর্ষণ কমানো সম্ভব। তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি শুধু তরুণদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক খাত এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্মিলিত দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলোকেও তরুণদের কেবল মিছিল-মিটিংয়ে ব্যবহার না করে তাদের দক্ষতা, নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক জটিলতা, অযৌক্তিক বাধা, দুর্নীতি, বৈষম্য কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যদি তরুণদের বৈধ কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যায়, তাহলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া, উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ এবং প্রশিক্ষণ থেকে কর্মসংস্থানে যাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগে অনিয়ম ও বৈষম্য প্রতিরোধ করতে হবে, যাতে তরুণেরা বিশ্বাস করতে পারে যে পরিশ্রম, দক্ষতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে একদিকে যেমন মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যদিকে তেমনি তরুণদের জন্য বিকল্প ও ইতিবাচক সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শুধু শাস্তির ভয় দিয়ে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা যায় না; ন্যায়বিচার, সামাজিক সহায়তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতিতে জনআস্থা প্রসঙ্গে মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বক্তব্য কিংবা সাংগঠনিক বিস্তারে নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও বাস্তব কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হয়। বিএনপি জনগণের আস্থা ও সমর্থনকে গুরুত্ব দেয়। সেই আস্থা ধরে রাখতে হলে দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে, অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং স্থানীয় সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ সুযোগ, সাক্ষীদের সুরক্ষা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে অপরাধকে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার পরিচয়ে বৈধতা দেওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে।

সবশেষে মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি জনস্বার্থ, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, আবার নিরপরাধ কাউকে হয়রানিও করা যাবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের জন্য শিক্ষা, কাউন্সেলিং, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষ যদি এসব সুযোগ তৈরির পথে অযৌক্তিক বাধা দূর করে, বৈষম্য প্রতিরোধ করে এবং তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাস্তব পথ খুলে দেয়, তাহলে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় সমাজ গড়ে তোলা আরও সহজ হবে।