রাঙ্গামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেইটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
সমাবেশে যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। কয়েকদিন পর পর এমন অবরোধ কর্মসূচির কারণে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দ্রুত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিতে হবে।
ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ-ইটাব এর সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের মত নাম সর্বস্ব একটা প্রতিষ্ঠান একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে অবরোধের ডাক দিয়ে দিচ্ছে। দুই আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধের জেরে আমরা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কয়েকদিন পর পর আন্দোলন কর্মসূচির কারণে আমরা যারা পর্যটনে বিনিয়োগ করছি তারা লোকসানের মুখে পড়ছি।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। দেশের দ্বিতীয় জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে আমরা আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি দেব।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ, সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, পরিবহন শ্রমিক নেতা মো. মাসুম।
তারা বলেন, আঞ্চলিক দুই সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের জেরে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটন শিল্প। আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত দুই সংগঠনের তিন দফা দাবিতে শুক্রবার সাজেকে দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে। তবে অবরোধের দ্বিতীয় দিনে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে কাউকে অবরোধের সমর্থনে কোনো মিছিল বা পিকেটিং করতে দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, জনসংহতি সমিতির সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় সড়ক অবরোধ পালন করছে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। একই দিন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক।