প্রাকৃতিকভাবে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক ১৪টি উপায়

দেহের প্রতিটি কোষের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত রক্তসঞ্চালন প্রয়োজন। আমাদের দেহে প্রায় ৬০ হাজার মাইল রক্তনালি রয়েছে। এসব রক্তনালির মধ্য দিয়েই দেহের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালিত হয়। দেহের কোনো অংশে রক্তসঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হলে অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবে পড়ে সেখানকার কোষ।

ফলে ব্যাহত হয় সেই অংশের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা। রক্তসঞ্চালন বাড়ে বা ঠিকঠাক মতো হয়, এ জন্য কিছু চর্চা প্রয়োজন।

রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় যেসব কারণে

শরীরে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রধান একটি কারণ হলো ধুমপান। সিগারেটে থাকা কার্বন মনোক্সাইড রক্তের কোষের স্তর ধ্বংস করে দেয়। ফলে শিরায় প্লাক এবং চর্বি জমে যায়।রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়।

আজকাল আমরা শারীরিকভাবে অনেক বেশি নিষ্ক্রিয় জীবন যাপন করি এবং শরীরচর্চা করার সময়ই পাই না। শরীরচর্চা না করা এবং সক্রিয়তার অভাবেও রক্ত চলাচল ব্যাহ হয়।

ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে স্থুলতায় আক্রান্ত হওয়ার কারণেও রক্তচলাচল ব্যাহত হয়।

উচ্চ/নিম্ন রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলও রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।

কীভাবে রক্ত চলাচল বাড়ানো যাবে

১. মদপান ত্যাগ করুন
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানে হৃৎপিণ্ডে সমস্যা হয়। সুতরাং আজই মদপান ত্যাগ করুন। তবে রেডওয়াইন জাতীয় হালকা মদ পান করা যেতে পারে। কেননা রেডওয়াইনে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রেখে রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। তবে পরিমি পরিমাণে রেডওয়াইন খেতে হবে।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
দেহকে সচল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে হবে। পানি আমাদের দেহ থেকে ট্রক্সিন বা বিষ বের করে দিতে সহায়ক। আর দেহকে যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়িয়ে রক্তচলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

৩. বাদাম খান
কাজুবাদাম এবং আখরোট খেলে রক্ত চলাচল বেগবান হয়। ভিটামিন এ, বি, সি ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম এবং ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ বাদাম খেতে হবে। বাদাম ধমনীতে প্রদাহ এবং পঁচনজনিত ক্ষয়রোধ করে রক্ত চলাচল বাড়ায়।

৪. গ্রিন টি
দুধ চা না খেয়ে বরং গ্রিন টি খান। যা আরো বেশি স্বাস্থ্যকর এবং দেহের কার্যক্রমতে উদ্দীপিত করে। গ্রিন টি রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে প্রশস্ত করে যার ফলে রক্ত প্রবাহের গতিও বাড়ে।

৫. স্নায়ু উত্তেজক উপাদান এড়িয়ে চলুন
ক্যাফেইন এর মতো স্নায়ু উত্তেজক উপাদান এড়িয়ে চলুন। তাহলে কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আপনার দেহের সব অংশে রক্তচলাচল করতে পারবে। ক্যাফেইন শরীরকে শুষ্ক করে তোলে। কিন্তু রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি।

৬. লবণ খাওয়া কমান
অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে এবং স্ফীতি দেখা দেয়। যার ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এজন্য ক্যানজাত খাবারের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফ্রিজে জমাট খাবার, কেচাপ সস বাদ দিতে হবে। কেননা এসবে উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম থাকে।

৭. রসুন, আদা, পেঁয়াজ
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রসুন, আদা এবং পেঁয়াজের পরিমাণ আরেকটু বাড়ান। এসব আপনার রক্ত চলাচল প্র্রক্রিয়ার স্বাস্থ্য উন্নত করবে। এছাড়া এসবে আছে প্রদাহরোধী এবং জীবাণুরোধী উপাদান যা হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে। এছাড়া রোগ-জীবাণুর সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কাজ করে এবং দেহকে বিষমুক্ত করে এসব উপাদান।

৮. ভেষজ খাওয়া বাড়ান
যে কোনো রোগের চিকিৎসায় ভেষজ অনেক বেশি নিরাপদ এবং কার্যকর। ভেষজ পরিবারেরই সদস্য জিনসেং মূলসমুহ যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত চলাচল বাড়ায়।

৯. ডার্ক চকোলেট
এতে আছে কোকোয়া যাতে আছে ফ্ল্যাভোনয়েড। যা রক্ত প্রবাহ উন্নত করে।

১০. গোলমরিচ
গোলমরিচ বিপাকীয় হার বৃদ্ধি করে। এবং ধমনি ও রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোকে শক্তিশালী করে।

১১. সূর্যমুখি বীজ
এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে। যা রক্তে জমাটবদ্ধতা প্রতিরোধ করে। এছাড়া জলপাই, বাদাম এবং তরমুজ বীজও উপকারী।

১২. সাইট্রাস ফল
কমলা, লেবু এবং জাম্বুরারে আছে ভিটামিন সি এবং সুগার ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক। ফলে রক্ত চলাচল বাড়ে।

১৩. তরমুজ
এতে আছে লাইকোপেন নামের একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তচলাল উন্নত করে। টমেটো, অ্যাপ্রিকট এবং গোলাপি মোসাম্বি লেবুও রক্ত চলাচল অবাধ করে।

১৪. অ্যাভোকাডো
এতে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা হৃদযন্ত্রকে সচল রাখে এবং রক্ত প্রবাহের গতি বাড়ায়। এছাড়া কাঁচা চীয়া বীজ এবং শ্বেতবীজেও একই উপকারীতা আছে।

জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন
-ধূমপান রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করে।
-ব্যায়াম ও হাঁটাচলা রক্তের গতি বজায় রাখে।
-অতিরিক্ত ওজন রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
-যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মাধ্যমে স্ট্রেস কমালে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।