শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে একটানা সাত দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানিপণ্যবাহী ট্রাক ভারতে প্রবেশ করে।
হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত হিলি বন্দর দিয়ে দ্বিপক্ষীয় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর শনিবার দুপুর থেকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য লোড-আনলোড পুরোদমে সচল হওয়ায় বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে।
বন্দরের বেসরকারি ওয়্যারহাউস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেড সূত্র জানায়, সাত দিন বন্ধ থাকার পর আমদানি করা পণ্যের খালাস ও খালাসকৃত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর কাজ পুরোদমে চলছে।
টানা ছুটির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া বন্দর শ্রমিকদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। মো. নূর হোসেন নামের এক লোড-আনলোড শ্রমিক বলেন, বন্দর বন্ধ থাকায় এতদিন কোনো উপার্জন ছিল না। জমানো অল্প টাকা দিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ধারদেনা করতে হয়েছে। কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের অনিশ্চয়তা কেটেছে।
হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার (উপকমিশনার) জানান, পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আমদানি-রপ্তানি পুনরায় চালু হয়েছে। আমদানিকৃত পণ্য দ্রুততম সময়ে খালাস নিশ্চিত করতে কাস্টমস কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন।
এদিকে বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া। তিনি জানান, সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা স্বাভাবিক নিয়মেই দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।