১৫০ বছরের পুরোনো লাঠি খেলা ঘিরে দেওগ্রামে উৎসবের আমেজ

ঢোলের আওয়াজ, কাঁসার ঘণ্টার সুর আর লাঠির তীব্র ক্ষিপ্রতায় মুখরিত এখন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দেওগ্রাম। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো লাঠি খেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেওগ্রাম এলাকাজুড়ে বই উৎসবের আমেজ। ‘ঠা ঠা ঠকঠক’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

কখনও আক্রমণ ঠেকাতে দূরন্ত পদবিক্ষেপ, আবার কখনও বা প্রতিপক্ষের আঘাত এড়িয়ে ক্ষিপ্র চাল—সব মিলিয়ে গ্রামটি জুড়ে যেন এককালের থমকে যাওয়া ইতিহাস জীবন্ত রূপ নিয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে ক্ষেতলাল উপজেলায় এই লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে যা চলবে গভীর রাত পর্যন্ত।

স্থানীয়রা জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর তিন দিন পর দীর্ঘ দেড়শ বছর যাবত পশ্চিম দেওগ্রামের বুকে বসে ঐতিহ্যবাহী এই মেলা। এই আয়োজন আজও গ্রামীণ পলিমাটির মেঠো পথ আর মানসপটে এক অনন্য মেলবন্ধনের গাঁথা রচনা করে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রাম পেরিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা অগণিত মানুষের পদচারণায় পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়।

মেলাঙ্গনে ঘুরে দেখা যায়, মিষ্টির দোকানে ছোট-বড় সবার উপচে পড়া ভিড়, নারীর পছন্দের প্রসাধনী কিংবা গৃহস্থালির টুকিটাকি কেনাকাটার ধুম। লাঠি খেলা চলাকালে দর্শকের করতালি আর ‘হৈ হৈ’ শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

ক্ষেতলালের গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এই মেলা কেবলই একটি বাৎসরিক পার্বণ নয়, আমাদের কাছে এটি স্মৃতির দিনলিপি। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় আমি শৈশব থেকেই দেওগ্রামের এই রূপ দেখে আসছি। ঐতিহ্য মেনে গ্রামের ঘরে ঘরে আজ খই, মুড়ি, নাড়ু আর মাংস-ভাতে অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লাঠি খেলায় আগত প্রবীণ লাঠিয়াল শহিদুল বলেন, এই লাঠি খেলা রক্তেই মিশে আছে। বাবা-দাদার হাত ধরে শেখা এই বিদ্যা ১৯৮০ সাল থেকে ধরে রেখেছি। প্রতিবার দেওগ্রামের মেলায় অংশ নিতে আসি।