চুল কেটে ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে নারীকে নির্যাতনের মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহে বাড়িতে ঢুকে এক নারীর (৪০) মাথার চুল কেটে এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আন্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে হরিণাকুণ্ডু এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। দুপুরে হরিণাকুণ্ডু থেকে মামলার ১ নম্বর আসামি আন্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওই নারীর বাড়িতে ঢুকে মাথার চুল কেটে ও শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন করা হয়।

পুলিশ জানায়, ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ তুলে আনোয়ারের স্ত্রী আন্না খাতুন, দুই মেয়ে ও ছেলে এ ঘটনা ঘটায়। আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তাদের সহযোগিতা করেন।

এ ঘটনায় আন্না খাতুনকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঝিনাইদহে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে আজ দুপুরে হরিণাকুণ্ডু থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, তারা দরিদ্র পরিবার। স্বামী ইজিবাইক চালান। একমাত্র ছেলে সেলুনে কাজ করেন। সম্প্রতি এক খণ্ড জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা ঘর দিচ্ছেন তারা। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী-সন্তানেরা মনে করছেন, ঘর করতে আনোয়ার টাকা দিয়েছেন। এই সন্দেহে তারা পরিকল্পিতভাবে এই নির্যাতন চালিয়েছে।