মা থাকতেন একই বাসার আলাদা একটি কক্ষে, আর ছেলে-পুত্রবধূ গিয়েছিলেন বেড়াতে। দিনকয়েক পর ফিরে বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে পাওয়া গেল গলিত মরদেহের দুর্গন্ধ। গোপালগঞ্জ শহরের তেঘোরিয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে শেফালী বেগম (৪০) নামের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উদ্ধার হওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে পরিবারটির ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও রহস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেঘোরিয়া এলাকার মিলন খানের বাড়িতে ছেলে শাহিন মিয়া (সিয়াম), তার স্ত্রী সানজিদা বেগম এবং মা শেফালী বেগম ভাড়া থাকতেন। শনিবার বিকেলে ওই বাসা থেকে হঠাৎ তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর থেকে আটকানো কক্ষের দরজা ভেঙে বাথরুমের মেঝেতে শেফালী বেগমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের ছেলে সিয়ামের ভাষ্যমতে, গত ২৯ মে তার বাবা ও মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। বিচ্ছেদের পর থেকেই শেফালী বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরপর প্রায় পাঁচ মাস আগে মাকে সঙ্গে নিয়ে তারা এই বাসাটিতে ভাড়া ওঠেন। সেখানে তার মা একটি আলাদা কক্ষে একা থাকতেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি নিজের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখতেন এবং সচরাচর ঘর থেকে বের হতেন না।
ছেলের স্ত্রী সানজিদা বেগম জানান, তিন-চার দিন আগে তারা সপরিবারে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। শনিবার বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে লাগানো অবস্থায় পান এবং ঘরের ভেতর থেকে উৎকট গন্ধ বের হতে থাকে। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে তারা পুলিশকে অবহিত করতে বাধ্য হন।
তবে প্রতিবেশীদের একাংশ বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছেলে ও পুত্রবধূর চরম অবহেলা এবং অযত্নের কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। বাথরুমের ভেতর বেশ কয়েক দিন ধরে শেফালী বেগমের মরদেহ পড়ে থাকলেও পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি আগে টের না পাওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া সন্দেহজনক বলে মনে করছেন তারা।
গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাঈম হায়দার জানান, কক্ষের দরজা ভেতর থেকেই ছিটকিনি দেওয়া ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা ঘটনা রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।